স্টাফ রিপোর্টার : মো শিহাব // হিজলা উপজেলার ঐতিহ্য, শত শত বছরের পুরনো একটি রেইনট্রি গাছ। বিশাল দেহি এ গাছটি ছায়া দিচ্ছে হাজারো মানুষকে। এটি হিজলা উপজেলার প্রকৃতির ছাতা। প্রাণ বাঁচিয়েছে লক্ষ লক্ষ। আজ গাছটি প্রতিবন্ধী। তাকে উদ্ধারে কেউ আসেনি।
উপজেলা প্রবেশদ্বার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের মূলগেটের পার্শ্বে দৃষ্টিনন্দন ছায়া বৃক্ষ রেইন্টি গাছ। শনিবার সকালে গাছ কেটে ফেলে বিসমিল্লাহ টাওয়ার মালিক মন্টু হাজির লোকজন। মুখ খুলছে না দোকানদার ফয়েজ হাওলাদার, চা দোকানদার তাহের সর্দার, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। সোহেল নামের অপর দোকানদার জানান, ইউ এন ও মহোদয় গাছ কেটেছেন। এর বেশি কিছু জানেন না।
সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা সাহ্ আলম জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। লোকমুখে শুনেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, ইতিমধ্যে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রশাসনেও অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ থেকে বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ মসজিদের নাম করে সিএনবি সড়কের গাছ কাটার পায়তারা চালাচ্ছে প্রশাসন। মানা হচ্ছে না আইন-কানুন। মুখ খুলছে না কোন পক্ষ।
সাবেক এক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পরিষদ থেকে গাছ কেটে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে পার পেয়ে যান। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
হিজলা উপজেলা সামাজিক বন কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সরকার বা ব্যক্তি পর্যায় কেউ তাদের কাছে আসেনি। ওই। ওই গাছ সরকারি কম্পাউন্ডে ইউএনও মহোদয় ভালো জানেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক জানান, গাছ কাটার বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম এর কাছে খুদে বার্তা পাঠালে, বিষয়টি দেখছেন।
মন্টু হাজী এর আগেও সরকারি রাস্তা থেকে বেশ কটি গাছ কেটে নিয়ে গেছে। তবে ওই সময় প্রশাসন ছিল নীরব। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গাছগুলো কেটে নিচ্ছে মন্টু। নয়তো সরকারি কম্পাউন্ড থেকে, সরকারি গাছ প্রশাসনের চোখের সামনে কিভাবে কেটে নেয়। এটি সাধারণ জনগণ ভালোভাবেই বুঝেন।